কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান
দ্বীপ চন্দ্র সরকার, বার্তা সম্পাদক
ময়মনসিংহ সদর (ময়মনসিংহ-৪) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক ধর্মমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী নিচে তুলে ধরা হলো:
➤ জন্ম ও প্রাথমিক জীবন:
অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মো. আব্বাস আলী এবং মায়ের নাম মালেকা খাতুন।
শিক্ষাজীবন তিনি ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন।
➤রাজনৈতিক জীবন ও অবদান:
অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ছিলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
➤ভাষা আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতি: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ‘৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন এবং ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
➤মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ঢালু যুব শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন তিনি। তিনি ময়মনসিংহের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে এবং সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিতে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
➤নেতৃত্ব: তিনি দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
➤সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীত্ব তিনি ১৯৮৬ এবং ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বর্তমান সরকারের টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং অত্যন্ত সফলতার সাথে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করেন। শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবা শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন, যেখান থেকে তাঁর নামের সাথে ‘অধ্যক্ষ’ উপাধিটি স্থায়ী রূপ নেয়। এ ছাড়া তিনি ময়মনসিংহে অসংখ্য স্কুল, কলেজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পুরস্কার ও সম্মাননা
মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা “স্বাধীনতা পদক” (২০২২)-এ ভূষিত করে।
➤মহাপ্রয়ান:
রাজনীতি ও সমাজসেবায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট ৮১ বছর বয়সে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। “ময়মনসিংহের রাজনীতিতে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ছিলেন একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর সততা, দেশপ্রেম এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখবে।”