স্ত্রী ডিভোর্স দিলে দেনমোহর কেন স্বামীকে দিতে হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত আইনে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হলে, স্ত্রী ডিভোর্সের উদ্যোগ নিলেও স্বামীকে সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করতে হয়। এ আইনটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ সমাজের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পুরুষ অধিকার ফাউন্ডেশন এক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন-
যখন স্ত্রী স্বেচ্ছায় ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তখন কেন স্বামীকে আর্থিকভাবে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে দেনমোহর একটি নিরাপত্তা মূলক আর্থিক চুক্তি, কিন্তু সেটি ডিভোর্সের কারণ নির্বিশেষে সবক্ষেত্রে শুধু পুরুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। আইন সংশোধন করে স্বামীর প্রতি বৈষম্যমূলক ধারা বাতিল করতে হবে।
কাবিনের বাস্তবতা –
আমাদের দেশে সাধারণত বিয়ের সময় পাত্রীপক্ষ জোর করে পাত্রকে সাধ্যের অতিরিক্ত টাকা কাবিননামায় ধার্য করতে বাধ্য করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কাবিন হয় বাকিতে। যেমন—কাবিন ধরা হলো ১০ লাখ টাকা, কিন্তু গহনা ও অন্যান্য জিনিস বাবদ ২–৩ লাখ টাকা দেখিয়ে বাকি পুরোটা বাকি রাখা হয়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিয়ের সময়ই দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। দেনমোহর স্বামীর উপর একটি বাধ্যতামূলক আর্থিক দায় ।কোরআনের সুরা বাকারার ২২৯ নং আয়াতে খোলা (Khula) প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ আছে, স্ত্রী যদি স্বামীর কাছ থেকে মুক্তি চান, তবে মোহরানার অতিরিক্ত কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্ত হতে পারবেন।
অর্থাৎ ইসলাম অনুসারে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী ক্ষতিগ্রস্ত হলে, স্ত্রীই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। কিন্তু আমাদের দেশীয় আইন ঠিক বিপরীত, যেখানে স্ত্রী তালাক দিলেও দেনমোহর দিতে হয় স্বামীকেই। যা ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কাবিনের ব্যবসা-
এই আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে কিছু নারী বিয়ের নামে কাবিনের ব্যবসা করছে। তারা বিয়ে করে কয়েক মাস পর তালাক দিয়ে দেনমোহরের টাকা আদায় করছে। এর ফলে অনেক স্বামী নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
লন্ডন প্রবাসী এক নারী প্রতিবছর বাংলাদেশে এসে বিয়ে করে কাবিনের ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। এভাবে অনেক নারী কাবিনের ব্যবসা করে কোটিপতি হয়ে গেছে।
এভাবে চলতে পারে না। বহু বিবাহ রোধে বিবাহ নিবন্ধনকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে এবং দেনমোহর সংক্রান্ত আইন ইসলামী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। তাদের দাবি—ন্যায়বিচারের নামে বৈষম্য নয় আইন সবার জন্য সমান হতে হবে।