বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রাণকেন্দ্রে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি পাঠাগার’-এর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের মহান শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে অম্লান রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে জ্ঞান ও সচেতনার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাঠাগারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
এস এম মনজুরুল হক, প্রশাসক, বান্দরবান পৌরসভা।
নাছির উদ্দীন, সম্মানিত সদস্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ।
অং চ মং (অংচমং মারমা), সভাপতি, বান্দরবান জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)।সাব ইন্সপেক্টর মাহমুদ, প্রতিনিধি, বান্দরবান জেলা পুলিশ প্রশাসন।অতিথিবৃন্দের বক্তব্য ও জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি অধ্যাপক থানজামা লুসাই বলেন,
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের নতুন এক বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছে। শহীদ আবু সাঈদ বুকের রক্ত দিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া তথা সমগ্র পাহাড়-সমতলের মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শিখিয়েছেন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগার বান্দরবানের তরুণ প্রজন্মকে মেধা ও মননে সমৃদ্ধ করবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রেরণা জোগাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক ও জেলা পরিষদ সদস্য নাছির উদ্দীন জুলাই বিপ্লবের বীরদের স্মরণ করে বলেন, জুলাই মাসের সেই রক্তঝরা দিনগুলো এবং আবু সাঈদের সেই বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্য বাঙালি জাতি কোনোদিন ভুলবে না। এই পাঠাগারটি যেন কেবল বই পড়ার স্থান না হয়ে, জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখার একটি জীবন্ত স্মারক হয়ে ওঠে।
বান্দরবান জেলা দুপ্রক সভাপতি অং চ মং তাঁর বক্তব্যে তরুণদের দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি সাব ইন্সপেক্টর মাহমুদ পাঠাগারের এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সমাপনী
উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ পাঠাগারটি ঘুরে দেখেন। স্থানীয় তরুণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, বান্দরবানের প্রাণকেন্দ্রে এই পাঠাগারটি স্থাপন করায় সর্বস্তরের পাঠক, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ভীষণভাবে উপকৃত হবে এবং এর মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের সঠিক ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে।