শরিয়তপুর:কখনো উর্বর কৃষিজমির বুক চিরে লোভের নখর বসে, কখনো সমাজের নীরব অলিগলিতে জুয়ার বিষাক্ত ছায়া বিস্তার করে মানবিক মূল্যবোধকে গ্রাস করার অপচেষ্টা চলে। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন যখন জেগে ওঠে, তখন অন্যায়ের সেই নীরব আস্তানাগুলো আর নিরাপদ থাকে না। শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় গত ২৯ জুন পরিচালিত পৃথক দুটি মোবাইল কোর্ট অভিযান যেন সেই জাগ্রত আইনেরই দৃঢ় ঘোষণা,অপরাধ যত ক্ষুদ্রই হোক, আইনের দৃষ্টিতে তার কোনো আশ্রয় নেই।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি শুধু মাটির স্তূপ নয়, এ মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের ঘাম, অন্নের নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন-জীবিকা। অথচ সেই উর্বর জমির উপরিস্তর অবৈধভাবে কর্তন করে প্রকৃতির ভারসাম্য ও কৃষির ভিত্তিকে বিপন্ন করার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটিত হলে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার শর্তে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।
একই দিনে শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং বাজারেও আইনের আরেকটি দৃঢ় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষয় করে এমন জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় Public Gambling Act, 1867-এর আওতায় এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ শাস্তি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নয়, বরং সমাজে বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।
রাষ্ট্রের আইন কখনো প্রতিহিংসার ভাষায় কথা বলে না, আইন কথা বলে ন্যায়ের ভাষায়। আর সেই ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথেই মোবাইল কোর্টের প্রতিটি অভিযান হয়ে ওঠে জনস্বার্থ রক্ষার এক বাস্তব প্রয়াস। কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড,তা অবৈধভাবে কৃষিজমির উপরিস্তর কর্তন হোক কিংবা জুয়া ও মাদকের বিস্তার, কোনোটির প্রতিই কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না। পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল কোর্টের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
যেখানে অন্যায় নীরবে শিকড় গাড়তে চায়, সেখানে আইনের দৃঢ় পদচারণাই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আশ্বাস। আর শরীয়তপুরের দুই উপজেলায় পরিচালিত এ দুটি অভিযান যেন সেই বার্তাই নতুন করে উচ্চারণ করলো,ন্যায়ের পথে রাষ্ট্র অটল, অবৈধতার পরিণতি অবশ্যম্ভাবী।