আজ শুক্রবার পবিত্র মহরম ও ১৮ বানু হাশিম জুলুশ উদযাপন হয় মিরপুর মারকাজি ইমামবাড়া থেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র মহরম ও ঐতিহাসিক ১৮ বানু হাশিম জুলুশ (তাজিয়া মিছিল) ইসলামের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মরণে ঢাকা মিরপুর মারকাজি ইমামবাড়া থেকে এই শোক মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সত্যের পথে জীবন উৎসর্গের বার্তা দেয় এই দিনটি। পবিত্র মহরম ও কারবালার শোকাবহ ইতিহাস মহররম মাসের ১০ তারিখ বা পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক বিশেষ শোক ও ত্যাগের দিন।
৬১ হিজরির এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) সপরিবারে শহীদ হন। তাঁর সাথে বানু হাশিমের (নবীজীর পরিবার) ১৮ জন সদস্য এবং অন্যান্য সঙ্গীরাও প্রাণ বিসর্জন দেন। জুলুশ বা তাজিয়া মিছিলের তাৎপর্যসেই মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ করে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হোসাইনী কাশিদ ইমামবাড়া প্রধান খলিফা হাজী রিয়াজ উদ্দিন বাদশা (মানিক) ওস্তাদ
ঢাকায় প্রতি বছর শিয়া সম্প্রদায়সহ অগণিত ধর্মপ্রাণ মুসলিম তাজিয়া শোক মিছিল বের করেন। ঢাকার হোসেনী দালান ও অন্যান্য স্থান থেকে এই মিছিলগুলো শুরু হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম করেন এবং কারবালার সেই বিষাদের প্রতীক হিসেবে তাজিয়া (রঙিন বাঁশ ও কাগজের তৈরি গম্বুজ) বহন করেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাএই জুলুশ বা মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিছিলে লাঠি, ছোরা, তরবারি বা যেকোনো ধারালো অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) এই নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করে। সারসংক্ষেপ পবিত্র মহরমের এই আয়োজন শুধু শোক পালনের জন্য নয়, এটি মানবজাতিকে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। ১৮ জন বানু হাশেমের আত্মত্যাগের স্মৃতি অম্লান রাখতে প্রতি বছর আয়োজিত এই জুলুশ আমাদের ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা যোগায়।