হিযবুত তাওহীদ নামক কুফুরী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে সেমিনারের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম।
জাহিদ হাসান চৌধুরী
ফেনী জেলা প্রতিনিধি
৭ জুন ২০২৬ ইং রোববার বিকেল ৪টায় ফেনী শহরের এম্বিয়েন্স রেস্টুরেন্ট কনভেনশন হলে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ ফেনী জেলার উদ্যোগে হিযবুত তাওহীদের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ঈমান আকিদা বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধে উলামায়ে কেরামের করণীয় শীর্ষক সেমিনার, আইম্মা পরিষদ ফেনী জেলার সভাপতি আল্লামা মুফতি ইউসুফ কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় দা’ওয়া বিষয়ক সম্পাদক ও ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।
সেমিনারে ফেনী জেলার শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য পেশ করেন বক্তাগণ বলেন হিজবুত তাওহীদ নামক এই কুফরি সংগঠনটি সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সাথে সাথে মুসলমানদের ঈমান-আকিদা ধ্বংস করছে। দ্বীন, ইসলাম ও আলেম-ওলামার প্রতি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাই এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
সেমিনারে জেলার শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- মুফতি আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন আল মোবারক, আল্লামা শাইখ মিজানুর রহমান, আল্লামা হাফেজ আবু সাঈদ, মাওলানা ইউসুফ সাদেক, আল্লামা শিব্বির আহমদ, মুফতি ইলিয়াস বিন নাজেম, মাওলানা মুমিনুল হক জাদীদ, মাওলানা ইসমাঈল হায়দার, মুফতি মীর হোসাইন, মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ কাসেম, মাওলানা নূরুল করীম, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা হাফেজ রফিকুল ইসলাম ভুইয়া, মুফতি আবদুল কাইয়ুম সুহাইল, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা গাজী এনামুল হক ভুঞা, মাওলানা একরামুল হক্ক ভুঞা, মাওলানা মুহাম্মদ আলী মিল্লাত, মাওলানা মোজাফফর আহমদ জাফরী প্রমুখ।
সেমিনারে জাতির ঈমান-আকিদা ধ্বংসকারী হিজবুত তাওহীদ নামক এই ভ্রান্ত সংগঠনটির মুলোৎপাটনে ওলামায়ে কেরাম যেসব প্রস্তাব পেশ করেছেন-
১। হিজবুত তাওহীদ বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন আলেম কাজ করলেও, জাতীয়ভাবে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই দেশের শীর্ষ আলেম ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের তত্তাবধানে খতমে নবুয়ত ইত্যাদি সংগঠনের মত হিজবুত তাওহীদ বিরোধী জাতীয় সংগঠন গঠন করা।
২। হিজবুত তাওহীদসহ সকল বাতিলের বিরুদ্ধে দলিল ভিত্তিক জবাব দেওয়ার জন্য তরুণ আলেমদের মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩। দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাসিক-পাক্ষিক আকীদা বিষয়ক সভার আয়োজন করা।
৪। জুমার আলোচনায় বাতিল মতবাদ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।
৫। সাধারণ মুসলমানদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন বৃদ্ধি করা এবং তাদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৬। নিজস্ব মিডিয়া ও মিডিয়া কর্মী তৈরি করা।
৭। মিডিয়ার মাধ্যমে বাতিল আকিদা বিষয়ে বিশ্লেষণ ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো।
৮। সরকারের কাছে বাতিল সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ও তা বাস্তবায়ন করা।
৯। যেখানে তারা বিশৃঙ্খলা করবে সেখানে প্রশাসিক ব্যবস্থা নেওয়া। নিজেরা আইন হাতে তুলে না নেয়া।
১০। হিকমাহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ বৃদ্ধি করা।
১১। জেনারেল শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈমান আকীদা বিষয়ক বিশেষ প্রোগ্রাম করা এবং সাইবার এক্সপার্টদের নিয়ে সেল গঠন করা।