বারহাট্টায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ, বিতর্কিত তালিকায় সহায়তা বিতরণ শুরু হচ্ছে আবারও
মোঃ সাইদুল ইসলাম
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২৪৯ জন কৃষককে সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত করা তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম বাদ পড়েছে। অপরদিকে বিতর্কিতভাবে কিছু নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ কৃষকরা একাধিক স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কৃষি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা জমা দিয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম রাখা হয়েছে বা কার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে বিতর্কিত তালিকার কারণে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। তালিকাভুক্তদের মাঝে আগামীকাল থেকে পুনরায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আগামীকাল ঢাকা থেকে আসবেন। এরপর পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।”
তালিকায় বিতর্কিত নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যাদের নাম ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, সেগুলো এখন পরিবর্তন করা কঠিন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও তালিকা থেকে বাদ পড়া কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানার নাম্বারে বারবার ফোন করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তিনি সাংবাদিকদের ফোনে বরাবরই বিরক্ত হন।